টালিউড অভিনেত্রী পাওলি দাম ২০০৩ সালে ‘জীবন নিয়ে খেলা’ নামক বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিকের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবনের পথচলা শুরু। এরপর তিনি ‘তিথির অতিথি’ ও ‘সোনার হরিণ’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিয়ালে অভিনয় করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকমনে দাগ কেটে যায়। আর সে কারণে একটা সময়ে তার সাহসী দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
আজ সেসব দৃশ্য সিনেমায়, ওটিটিতে বাঙালি দর্শকের কাছে যেন পানিভাতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন পরিস্থিতিতে বাংলা ছবি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সে কথা জানালেন অভিনেত্রী পাওলি দাম।
সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের একাংশের মনে পড়তে পারে, দেড় দশক আগে শ্রীলংকার পরিচালক বিমুক্তি জয়সুন্দর পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘ছত্রাক’-এর কথা। সেই সিনেমায় পাওলি দাম অভিনীত চরিত্রের একটি নগ্নদৃশ্য নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল দর্শকমহলে। এমনকি খোদ পাওলিকেও এ জন্য ঘরে-বাইরে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেই সময় সামাজিক মাধ্যমের এতটা রমরমা ছিল না, তবু নানা কুমন্তব্য শুনতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে।
এই দেড় দশকে কি বাংলা সিনেমার দর্শক আধুনিক হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সেই দিনগুলোর কথা অনিবার্যভাবে উঠে আসে পাওলি দামের বক্তব্যে। অভিনেত্রী বলেন, বাঙালি দর্শক ওই দৃশ্য নেওয়ার মতো পরিণতমনস্ক ছিল না সেই সময়। সেই সময় আমি জানতাম— আজ না হোক কাল এ ধরনের কাজ হবেই। সেই সময় কিছুটা সাজানোও হয়েছিল। তিনি বলেন, আমারও মনে হয়েছিল, আমি সময়ের থেকে এগিয়ে কিছু করছি। এটা তো হওয়ারই ছিল। আমি ওই ধরনের সিনেমা দেখেই বড় হয়েছি।
পাওলি দাম বলেন, কিন্তু এখন এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক কাজ হচ্ছে হামেশাই। এমনকি সেসব দৃশ্যের বক্তব্য রীতিমতো ‘সেলিব্রেট’ করা হচ্ছে! অনেক সিনেমাতেই সেটা দেখা যাচ্ছে। যারা এখন এই কাজ সেলিব্রেট করেন, তারা পরিণত হয়েছেন। আগে তারা অপরিণত ছিলেন। তাদের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়েছে। তারা শিক্ষিত হয়েছেন।
অভিনেত্রী বলেন, এমনিতেও সেন্সর প্রসঙ্গে আমরা বলে থাকি— বাংলা সিনেমায় খোলা পিঠ আর খোলা পা ছাড়া কিছুই দেখানো যায় না। তাই শুধু সেলিব্রেট না করে যদি সাহসী দৃশ্য নিয়ে জড়তা কাটাতে পারেন সিনেমা নির্মাতারা, তাহলে আখেরে বাংলা সিনেমার ভালোই হবে।
‘ছত্রাক’ সিনেমার নগ্নতা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই সেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন পাওলি দাম। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, যে কোনো চরিত্রই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা ফুটিয়ে তুলতে শিল্পের প্রয়োজনে তিনি বহু দূর যেতে রাজি। চিত্রনাট্যের খাতিরে, শিল্পের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করার ব্যাপারে তার যে কোনো ‘ট্যাবু’ নেই, সে কথাও এক সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছিলেন পাওলি দাম।
অভিনেত্রী বলেন, পৃথিবীজুড়ে সিনেমার ভাষা বদলেছে, শুধু আমাদের সিনেমা বাদে। বাংলা সিনেমা অনেক এগিয়ে ছিল। এখন ‘ছিল’ শব্দটা বলতে খারাপই লাগে। কারণ এই বাংলা থেকেই আমার কাজ শেখা। এখানকার দর্শকদেরই ভালোবাসা পাওয়া। তাদের ভালো কিছু দেওয়ার আমার চেষ্টা থাকে।


